খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্তে স্বস্তি, বিদেশে যেতে না দেওয়ার শর্তে আপত্তি

অনলাইন ডেস্ক | ২৪ মার্চ ২০২০ | ৭:৫৬ অপরাহ্ণ

বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিতে খুশি দলটির শীর্ষ নেতারা। তাঁর মনে করছেন, এটা পুরো জাতির জন্য একটি স্বস্তির সংবাদ। তবে এ মুক্তি অনেক দেরিতে হলো। আর ছয় মাস বাড়িতে থাকা ও বিদেশ যেতে না পারার যে শর্তারোপ করা হয়েছে তাতে আপত্তি নেতাদের।

বিএনপি নেতারা মনে করছেন, যদি প্রয়োজন হয় তবে খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া উচিত। এটা তাঁর অধিকার। কোনো নেতা বলেছেন, বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রিত না হলে তাঁর আরও আগেই মুক্তি পেতেন খালেদা জিয়া। সরকারের সব কাজে ঢিলেমির অভিযোগও করেছেন কোনো কোনো নেতা।

আজ মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, সম্প্রতি মুক্তির জন্য নতুন করে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত নয়। খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘অনেক আগেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল। সরকার যেহেতু করোনা থেকে সব বিষয়েই সিদ্ধান্ত দেরিতে নেয়। এখন দেরিতে নেওয়াতেই সময়টা এসে গেছে তাই মুক্তির কথা বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা সব সময়ই আশাবাদী ছিলাম। আগে আইনের মাধ্যমে হয়নি, পরিবার আবেদন করেছিল। এতোদিন পরে সরকারের বোধদয় হয়েছে। দেশ যখন বড় সংকটের সমানে সে সময় তাদের বোধদয় হইছে। এটা আশ্চর্যের কিছু না, প্রত্যাশা অনেক আগেই ছিল। বিচারবিভাগ নিয়ন্ত্রিত না হলে আরও অগেই হতো।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে ‘একটা স্বস্তির বিষয়।’ আমীর খসরু বলেন, ‘ওনার শরীর ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরো জাতির মধ্যে একটা শংকা কাজ করছিল। তার ওপরে এখন করোনার ভীতি তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার ঝুঁকি এবং জাতি যে ঝুঁকিতে পড়েছে তা থেকে একটা স্বস্তি মিলবে। এখন মানুষ নিজের অস্তিত্ব নিয়েই চিন্তা করছে। দেরিতে হলেও তিনি চিকিৎসার সুযোগটা পেয়েছেন, এটা সমস্ত জাতির প্রত্যাশা ছিল। ওনার সুস্থ হয়ে ওঠাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। দেশের রাজনীতির সুস্থতার জন্য তাঁর মতো এক নেত্রী অপিরহার্য। তিনি গণতন্ত্রের জন্য বাবারবার ক্ষিতগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু কখনোই আপোষ করেন নি।’

আজ আইনমন্ত্রী বলেছেন, ছয় মাসের মধ্যে খালেদা জিয়া নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। অন্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন না।

Read more article

এ বিষয়ে আমীর খসরুর বক্তব্য, ‘ওনার স্বাস্থ্যের জন্য যদি দরকার হয় তবে তাঁকে এ সুযোগ দিতেই হবে। সবাই তো বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করছে। তাঁর জন্য আইন ভিন্ন হবে কেন। তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে বাইরে যাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা সবাই এ সুযোগ নিয়েছেন। প্রতিনিয়ত গেছেন। স্বাস্থ্যের অধিকার সবারই আছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। শুধু তাঁর না, সকলেরই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ের মুক্তিতে খুশি। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইটস ওকে। আমরা তো মুক্তি চাচ্ছিলাম। এটা ভালো সিদ্ধান্ত, আমি খুশি। বিষয় হলো, বাসায় থাকতে হবে। বাইরে যেতে পারবেন না। এটা কেন করল, এটা বুঝতে পারছি না। উনি অসুস্থ তা সবাই জানে। অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার দরকার হলে যেতে পারবেন না, এ ধরণের বিধিনিষেধ যুক্তসংগত? যদি দরকার হয় উনি পারবেন না কেন?’

সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চান কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অবশ্যই।’

তবে নজরুল ইসলাম খানের কথা, ‘এখন যে সময়ে তাঁকে ছাড়া হচ্ছে যখন চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগও সীমিত। আকাশ পথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বন্ধ। আগে মুক্তি দিলে একটা অপশন থাকত। উনি যাবেন কী যাবেন না সেটা পরের ব্যাপার। আগে এ মুক্তি দিলে তাঁর সুযোগটা থাকত। এখন হয়তো তাঁকে সেল্ফ কোয়ারিন্টিনে থাকতে হবে। সময়টা এখন বিপক্ষে।’

খালেদা জিয়া এমনিতেই মুক্তি পেতেন বলেন মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘উনি মুক্তি পেতেনই। এটা প্রমাণ হলো যে সরকারই আটকিয়ে রেখেছিল। তারাই মুক্তি দিল, যা হয়তো আদালতেই হতো।’

বিএনপি এক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, খালেদার জিয়ার মুক্তির বিষয়ে গতকাল সোমবার থেকে গুঞ্জন শুনতে পান অনেকেই। কিন্তু মুক্তির বিষয়টি কেউ আগে আঁচ করতে পারেননি। তবে নেতা–কর্মীরা খুশি হয়েছেন।

Source: Prothom Alo

জাতীয়
২৪ মার্চ ২০২০