কালিয়ায় মুখথুবড়ে পড়েছে কর্মসৃজন প্রকল্প, অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক | ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

নড়াইলের কালিয়ায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বাস্তবায়নের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শ্রমিক অনুপস্থিতি ও তদারকির অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুপস্থিত শ্রমিকদের হাজিরা দেখিয়ে কাজ শেষ না করেই শ্রমিকদের ২০ দিনের মজুরীর প্রায় অর্ধ কোটি টাকার একটি অংশ সংশ্লিষ্টরা হরিলুট করে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেছেন, নানা কাজের চাপে কর্মসৃজন প্রকল্প গুলোর যথাযথ তদারকি করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই প্রকল্প গুলোর বাস্তব অবস্থা তিনি বলতে পারেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, অতি দরিদ্রদের জন্য চলতি অর্থ বছরে সরকারে বাস্তবায়নাধীন কর্মসৃজন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ৪৮টি প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়। ওইসব প্রকল্পের অনুকুলে ১ হাজার ২৩৯ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারি বিধান অনুযায়ী ওইসব প্রকল্পের একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৩৫ ঘনফুট মাটি কাটার বিনিময়ে ২০০ টাকা হারে মজুরী পাবেন। গত বছর ৩০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনের ওই কর্মসূচীর কাজ চলতি বছর ২২ জানুয়ারী শেষ হওয়ার কথা।

গত ১৮ জানুয়ারী উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের “নড়াগাতি লস্কারবাড়ি জামে মসজিদ থেকে মোস্তফা শিকদারের বাড়ি হয়ে কামশিয়া ইটের সলিং অভিমূখী রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন ও দেবদুন হাসান শেখের বাড়ি হতে নাসিরের দোকান অভিমূখী রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প দুটিতে সরেজমিনে গিয়ে সেখানে উন্নয়ন কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কোন শ্রমিকেরও দেখা মেলেনি। নড়াগাতি গ্রামের ওই প্রকল্পের সভাপতি খালেদা বেগম জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে নড়াগাতি প্রকল্পের তালিকাভূক্ত ২৫ জন শ্রমিক দিয়ে তিনি গাছবাড়িয়া গ্রামে একটি রাস্তার উন্নয়ন কাজ করাচ্ছেন। গাছবাড়িয়া গ্রামে তার নতুন প্রকল্পে গিয়ে ২৫ জন শ্রমিকের স্থলে ১২ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। শ্রমিক দল নেতা কাজী জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের শুরু থেকেই তারা ১৩ জনই কাজ করে আসছে। অসুস্থতার কারনে ১ জন ওইদিন আসেনি। ওই ইউপির ঘড়িভাঙ্গা স্কুল হতে ঘড়িভাঙ্গা মিন্টু মোল্যার বাড়ি অভিমূখী রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়নের কাজে ২২ জন শ্রমিক তালিকাভূক্ত থাকলেও ওই দিন কাজে উপস্থিত ছিলেন ১০ জন।

প্রকল্প সভাপতি বাবুল খান শ্রমিক অনুপস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, বর্তমানে ইরি ধান লাগানোর সময় ও হাটের দিন তাই শ্রমিক কম। তাই নিদৃষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজও শেষ হবে না। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন খোজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের অনুপস্থিতির কারনে উপজেলায় বাস্তবায়নাধিন প্রকল্প গুলোর কাজ বেশীর ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকের তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের কারনে অনেকেই ওইসব প্রকল্পের কাজে যোগ দেন না। যে কারনে গত ৩৫ দিনে উপজেলার বেশীর ভাগ প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ করেই বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় অর্ধেক টাকা সংশ্লিষ্টরা তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, নানা কারনে শ্রমিক অনুপস্থিত থাকে। তার মধ্যে বাজার হারের চেয়ে মজুরী কম হওয়ার কারনে অনেকেই কাজ করতে চায় না।

উপজেলার কর্মসৃজন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা কালিয়ার উপ সহকারি প্রকৌশলী দেবদাশ বিশ্বাস বলেছেন, নানা কাজের চাপে এবছর তিনি কর্মসৃজন প্রকল্প যথাযথ ভাবে মনিটরিং করতে পারেননি। তবে প্রকল্পের কাজে প্রায় ৭০ শতাংশ শ্রমিক উপস্থিত থাকার দাবি করে ও প্রকল্প সমূহ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, উপজেলার খাশিয়াল ও মাউলী ইউপি ছাড়া অন্য ইউনিয়ন গুলোর নিয়োগকৃত শ্রমিকদের ১০ থেকে ২০ দিনের মজুরীর টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ওইসব প্রকল্পের কাজ কত শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা বলেছেন, তিনি ওইসব প্রকল্পে শ্রমিক অনুপস্থিত থাকাসহ প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন ও সেগুলো দ্রæত বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

lead
২১ জানুয়ারি ২০২০