শিশুদের ক্ষেত্রে, করোনা ভাইরাসের লক্ষন, সতর্কতা, ও করোনীয়ো।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে এখন একটি’ই আতঙ্কের নাম (কোভিড১৯)বা, করোনাভাইরাস ডিটেকটেড ২০১৯। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ভাইরাসটি বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১১ লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। সর্বপ্রথম চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি এই ভাইরাসের সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর একক ছত্রছায়ায় আধিপত্ত বিস্তার করে মৃত্যু পুরিতে পরিণত করেছে ইউরোপের দেশ ইতালি ও স্পেনকে। এবং এর’ই মধ্যে দেশ দুটিতে  প্রান কেঢ়ে নিয়েছে সাড়ে ১৪ হাজার ও ১১ হাজার মানুষের।বিশ্বব্যাপী এই মহামারীর মধ্যে আপনারকে শিশুকে নিয়ে নিশ্চয়ই আপনিও দুঃশ্চিন্তায় আছেন। কেননা, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ শিশুর শরীরে সেভাবে কোনও লক্ষণ বোঝা যায় না। খুব সতর্ক থাকাটা তাই বিশেষ প্রয়োজনীয়। সাধারণ সর্দি-কাশির মতোই এই রোগে আক্রান্ত শিশুরাও জ্বর, শুকনা কাশি, গলা ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা ,বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

প্রথমত, কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ থেকে রোগ ছড়াতে পারে। অথবা করোনাভাইরাস হচ্ছে এমন জায়গায় ঘুরে আসার পরও এই রোগ সংক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে হাঁচি, কাশির মধ্যে দিয়ে  নির্গত থুতুর ড্রপলেট অথবা কোনও সারফেস থেকে আসা ভাইরাস হাতের মাধ্যম দিয়ে চোখ, নাক,মুখ দিয়ে শিশুদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

আরো পড়ুন

ফ্লু হলেই শিশুর ব্যবহৃত সব বাসনপত্র ও গামছা আলাদা করুন। দিন দুয়েকে দেখে নিন শিশুর কোনও রকম শ্বাসের সমস্যা হচ্ছে কি না। হলেই দ্রুত করোনাভাইরাস পরীক্ষা করান। টেস্ট পজিটিভ হলে ভয় না পেয়ে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে সুস্থ করে তোলার কাজে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন।

 

সাধারণ ফ্লু হলে শিশুদের এই কদিন পরিবারের সব সদস্যের কাছে তাকে যেতে দেবেন না। যিনি শিশুর দেখভাল করবেন, তিনি মাস্ক পরে ও ঘন ঘন হাত ধুলে আর রোগাক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকবে না। বাড়ির বয়স্কদের থেকে শিশুদের দূরে রাখুন। শৌচের সময় শিশু বা শৌচ করানোর দায়িত্বে থাকা মানুষটিকে খুব ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। যিনি পরিষ্কার করবেন, তার হাতে কোনও আংটি বা তাবিজ-কবজ না থাকলেই ভাল। কেননা, এগুলো থাকলে জীবাণুমুক্ত হতে অসুবিধা হয়।

শিশু যেন চোখ-নাক-মুখে হাত না দেয়, সে দিকে খেয়াল রাখুন। যারা বয়সে একটু বড়, তাদের কাফ এটিকেট ও বারবার হাত ধোয়ার নিয়ম জানিয়ে রাখুন, লক্ষ রাখুন তা সে মেনে চলছে কি না।

ছোটদের খাবারের মধ্যে সুষমভাবে প্রোটিন, শাকসবজি ও পানি ঠিক করে খাওয়ালে, ভাল করে ঘুমালে শিশুর ইমিউনিটি বৃদ্ধি পাবে এবং রোগের সঙ্গে তারা বেশি লড়তে পারবে।

আন্তর্জাতিক
৪ এপ্রিল ২০২০