করোনায় আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হয়ে জানালেন, কেমন ছিল তাদের শারীরিক অনুভূতি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০১ এপ্রিল ২০২০ | ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

মঙ্গলার ৩১ মার্চ মার্কিন গণমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে করোনা ভাইরাস থেকে সেরে ওঠা কিছু রোগীর অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়েছে ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সেরে ওঠা রোগীদের অভিজ্ঞতা একেকজনের একেক রকম। এটা আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণের মাত্রা, বয়স, আক্রান্ত হওয়ার আগে স্বাস্থ্যের অবস্থা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। অনেকের ক্ষেত্রে সেরে ওঠা মানে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাওয়া, আবার কারও ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে ফুসফুসে ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে যাওয়া।

স্কটল্যান্ডের এক নাগরিকের অভিজ্ঞতায় বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর, যদিও তার নাম প্রকাশ করা হয়নি ওই ব্যক্তি জানান, ইতালি থেকে ফেরার ১০ দিন পর পরীক্ষা করে তার করোনা ধরা পড়ে।

তিনি বলেন, আমার শরীরে কোনো লক্ষণ ছিল না। দুই দিন আমি অফিসেও গিয়েছিলাম, দ্বিতীয় দিন রাতে আমার সামান্য জ্বর আসে,শীতে কাঁপতে থাকে শরীরে ব্যথা শুরু হয়, বিশেষ করে পায়ে, পরে শ্বাসকষ্ট আর কাশিও দেখা দেয়। করোনা ধরা পড়ার পর আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তির কয়েক দিন পরেই লক্ষণগুলো দূর হয়। এখন আমার জ্বর, ব্যথা, কাশি বা শ্বাসকষ্ট নেই।

 

আরো পড়ুন

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবয়সী নাগরিক ক্লে বেন্টলি পুরোনো গ্রন্থিবাত রোগে (রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস) ভুগছিলেন, গত ১ মার্চ অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করলে ৬ মার্চ তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এতটা দুর্বল লাগছিল যে, নিজে একা উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না।  বেন্টলির ভাষায়, আমার মনে হচ্ছিল আমি শ্বাস নিতে পারব না। এমনকি আমি বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারতাম না।

তিনি জানান, ১৭ মার্চ থেকে আগের চেয়ে ভালো বোধ করতে থাকেন। তখন চিকিতসকেরা তাকে বলেন, তার ফুসফুসে যে তরল জমা হয়েছিল, সেটা আর নেই। এরপর বেন্টলিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় পাঠানো হয়।

ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজের একজন যাত্রী ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী কার্ল গোল্ডম্যান। ওই জাহাজ থেকে তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি জানান, শুরুতে তার ব্যাপক জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। পরে শুষ্ক কাশি দেখা যায়। তিনি বলেন,এটা একটা ভিন্ন ধরনের রোগ। ঠাণ্ডা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয়। আমার নাক বন্ধ হয়নি, গলাব্যথা হয়নি। মাথাব্যথাও ছিল না।

আন্তর্জাতিক
১ এপ্রিল ২০২০