চীনে চলছে ধরপাকড়-গুম, করোনা নিয়ে মুখ খুললেই ভয়াবহ পরিণতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩১ মার্চ ২০২০ | ৯:০০ অপরাহ্ণ

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। চীনের উহানে উতপত্তি এই ভাইরাস ইতোমধ্যে  প্রায় দুই’শ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বে  ৮ লাখের ও বেশি  মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে। মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৩৯ হাজারের।

করোনা নিয়ে মুখ খুললেই ভয়াবহ পরিণতি, চীনে চলছে ধরপাকড়-গুম

চীন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই ভাইরাসেরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩ হাজার ৩শ’ জন। তবে আসল সত্য অন্য রকম বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

বিভিন্ন বিস্যস্ত সূত্রে জানা গেছে, চীন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধ চালালেও তার চেয়ে এখন বড় যুদ্ধ করতে হচ্ছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। দেশটির অনেক সাংবাদিক সরকারের গোপন করা তথ্য ফাসের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে তাদেরকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভয়াবহ পরিণতির।

সাংবাদিকদের মাঝে এই স্প্রীহা তৈরি হয়েছে চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াঙ্গের মৃত্যুর পর থেকে, যিনি চীন সরকারকে আগেই এই ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সরকার তাতে কান দেয়নি। বরং তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। অবশেষে তার কথা সত্যে পরিণত হয় এবং তাকেও প্রাণ দিতে হয় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

আরো খবর

ডাক্তার লি ওয়েনলিয়াঙ্গের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় বইয়ে যায় বিশ্বব্যাপী। চীনে তিনি হয়ে ওঠেন নায়ক। সাংবাদিকরাও সোচ্চার হন। কিন্তু চীন সরকার হয়ে ওঠে আরও ভয়ঙ্কর।

জানা গেছে, যিনিই চীনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলছে তাকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। অনেককে গুমও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হু জিয়া নামে একজন চীনা মানবাধিকার কর্মী বলেন, আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তা অবিশ্বাস্য।  একদিন আমার রেডিও ফ্রি এশিয়ায় একটি টক শো ছিল, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে।  শো-এর আগে আমার বাসার সামনে পুলিশ আসে। আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং কঠোরভাবে নিষেধ করা হয় ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তারপরও আমার ইচ্ছা ছিল টক শো’তে অংশ নেওয়ার।  কিন্তু পারেনি। পুলিশ আবারও এসে হানা দেয় আমার বাড়িতে। বেশ কিছুক্ষণ তর্ক করার পর আমাকে গৃহবন্দি করা হয়।

তথ্য সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে/বাংলাদেশপ্রতিদিন

আন্তর্জাতিক
৩১ মার্চ ২০২০