আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ এপ্রিল ২০২০ | ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শনিবার রাত বারোটার পর মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

এর আগে কারা মসজিদের ইমাম আব্দুল মাজেদকে তওবা পড়িয়েছেন,চিৎকার করে কেঁদেছেন মাজেদ ও তওবা পরেছেন। ১২:১ মিনিটে ফাঁসির কার্যকর করা হয়। ফাঁসির সময় সামান্যটুকু শব্দ করেন নি আব্দুল মাজেদ। ৫ মিনিট ঝুলিয়ে রাখার পর তার লাশ ফাঁসির মন্চ থেকে নীচে নামিয়ে আনা হয়।

ওদিকে আব্দুল মাজেদের লাশ ভোলায় দাফন করাতে এম্বুলেন্স প্রস্তুত, ফাঁসির কার্যকরের পর লাশ ভোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। তবে ভোলা থেকে তার লাশ দাফনের জন্য দেবে না এলাকাবাসী এমন দাবী উঠেছে। এ নিয়ে বিপাকে রয়েছে কারা কতৃপক্ষ। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোলাকোট লাশ পাঠানো হবে ও দাফন করা হবে বলে প্রস্তুতি নিতে বলেছে স্থানীয় প্রশাসনকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এই মাজেদ। তখন তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন।

আরো পড়ুন

দুই দশকের বেশি সময় ধরে পলাতক থাকা মাজেদের বিষয়ে গত ৭ এপ্রিল এক ভিডিও বার্তায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আবদুল মাজেদকে গত মঙ্গলবার ভোর তিনটার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকা থেকে আটক করে। এরপর তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ‘প্রডিউস’ করা হলে আদালত মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং পরে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয় হয়।

এরপর ৮ এপ্রিল মাজেদকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার পর ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল চৌধুরী খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তিতে লাল সালু কাপড়ে মুড়া মৃত্যু পরোয়ানা পৌঁছে যায় কারাগারে এবং কারা কর্তৃপক্ষ পরোয়ানা পড়ে শোনান মাজেদকে।

এরপর ফাঁসির দড়ি এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে বুধবার প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন মাজেদ। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রাণভিক্ষার সে আবেদন নাকচ করে দিলে মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কারাগারে মাজেদের সঙ্গে দেখা করেন তার স্ত্রী সালেহা বেগম, স্ত্রীর বোন ও বোন জামাই, ভাতিজা ও একজন চাচাশ্বশুর সহ মোট ৫ জন।

আরও
১২ এপ্রিল ২০২০