সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখলো প্রতিবেশি, অবশেষে চার মেয়ের কাধে বাবার শেষ যাত্রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে এখন একটি’ই আতঙ্কের নাম(কোভিড১৯)বা, করোনাভাইরাস ডিটেকটেড ২০১৯। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ভাইরাসটি বিশ্বের ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটার, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এসব দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে  ১২,০২,২৩৬  মানুষ। এবং মৃত্যু হয়েছে  ৬৪,৭৫৩ জনের।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে অন্যান্য দেশের মত ভারতজুড়েও চলছে লকডাউন। প্রতি মুহূর্তে বলা হচ্ছে, বাঁচতে হলে একমাত্র অস্ত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর সেই সামাজিক দূরত্বের কারণে এবার মৃত্যুর পর এক ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিল না কেউ।

উল্লেখ্য, ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। পরিস্থিতি দেখে তার শেষকৃত্যে এগিয়ে আসে তার চার মেয়ে। তারাই বাবার মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে গেল শ্মশানে।

আরো পড়ুন

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের আলিগড়ে। মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জয় কুমার।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আলিগড়ের নুমাইশ ময়দানের চা-হেলিংয়ের বাসিন্দা ছিলেন বছর ৪৫ এর সঞ্জয় কুমার। পেশা চা বিক্রেতা হলেও বেশ কিছুদিন ধরে যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ এনেই কোনও রকমে নিজের রোগের মোকাবিলা করছিলেন সঞ্জয়। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে, আর চার মেয়ে অভাবের কারণেই পড়াশোনা ছেড়ে ঘরের কাজ করে।

তবে চরম দারিদ্রতার মধ্যেও কারও সাহায্য নেননি সঞ্জয় কুমার। সম্প্রতি তার শরীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। সরকারি হাসপাতালেও ওষুধের সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। শেষরক্ষা হয়নি আর। অবশেষে মারা গেলেন তিনি।

কিন্তু আতঙ্ক আর সামাজিক দূরত্ব কারণে তার মৃত্যুর পর সৎকারের কাজেও এগিয়ে আসেনি কেউ। শেষে চার মেয়েই কাঁধে করে বাবার মরদেহ নিয়ে যায় শ্মশানে। সেখানেই হয় শেষকৃত্য।

 

 

 

 

 

 

 

তথ্য সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরও
৫ এপ্রিল ২০২০